২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়েছিল পাকিস্তান। ঐতিহাসিক সেই জয়ের পর থেকেই মূলত পাকিস্তান ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিচের দিকে নামছে। সাবেক তারকা ব্যাটার মোহাম্মদ ইউসুফের মতে, ভারতের বিপক্ষে পাওয়া ওই জয়টিই উল্টো পাকিস্তানের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে দিয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নেওয়া কিছু কঠোর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সমা টিভির সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পাকিস্তান দল। হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারের পর লর্ডসের দ্বিতীয় টেস্টেও ১৯৪ রানে হেরেছে তারা। এমন লজ্জাজনক পরাজয়ের পর মাঝপথেই বড় ধরণের সংস্কারে হাত দিয়েছে পিসিবি। সফর চলাকালীনই দল থেকে সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠিয়ে তাদের জায়গায় নতুন সাতজনকে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রধান কোচ সারফরাজ আহমেদ এবং সহকারী কোচ উমর গুলকে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের এই কঠোর পদক্ষেপকে শতভাগ সমর্থন জানিয়েছেন সাবেক তারকা মোহাম্মদ ইউসুফ।
ইউসুফ দাবি করেন, পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বর্তমান সংকটের বীজ রোপিত হয়েছিল ২০২১ সালের সেই ঐতিহাসিক জয়ের পরই। তিনি বলেন, '২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে আমরা যে ম্যাচটি জিতেছিলাম, সেটি আসলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। ওই জয়ের পর খেলোয়াড়রা মনে করতে শুরু করে যে তারা বিশাল কিছু অর্জন করে ফেলেছে। এরপর তাদের ঠিক কী করা উচিত, তা তারা আর বুঝে উঠতে পারেনি।' তিনি আরও যোগ করেন, ভালো পারফর্ম করার পর খেলোয়াড়দের বিনয়ী হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু অহংকার ও অনাদর দেখানোর কারণেই আজ পাকিস্তান ক্রিকেটে সমস্যার পাহাড় জমেছে।
সাবেক এই ব্যাটার দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মানসিকতার সমালোচনা করে বলেন, দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ই অধিনায়ক হতে চাচ্ছিল, যার মাশুল এখনো দিতে হচ্ছে। গত চার-পাঁচ বছর ধরে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিসহ সব ফরম্যাটেই পাকিস্তান অত্যন্ত বাজে ক্রিকেট খেলেছে। পিসিবি সবসময় খেলোয়াড়দের সমর্থন দিয়ে এসেছে এবং অনেক কোচ পরিবর্তন করা হলেও কোনো খেলোয়াড় সামনে এসে নিজের দায়ভার নেয়নি। নয়টি দলের মধ্যে পাকিস্তান এখন নবম স্থানে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে দেশের নাম খারাপ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেট বোর্ডের উন্নতি করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না বলে মনে করেন তিনি।

