১২ই রবিউল আউয়াল আজ। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। আজকের এই দিনে আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে বিশ্বমানবতার মুুক্তির দূত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩ বছর পর একই দিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। তাই মুসলিম উম্মাহ্র জন্য আজকের এই দিনটি যেমন আনন্দের, তেমনি শোকেরও। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইতিহাসের এক অতুলনীয় আদর্শ। বর্বর আরব সমাজে তার আবির্ভাব বদলে দিয়েছিল গোটা সমাজ ব্যবস্থাকে। মানবতার মুক্তির দূত হয়ে তিনি আরব সমাজের পাশাপাশি গোটা পৃথিবীর মানুষের জন্য নিয়ে এসেছিলেন শান্তির অমোঘ বার্তা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে অন্য ধর্মাবলম্বী অনেকেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী বিখ্যাত পণ্ডিত মাইকেল এইচ হার্ট তার বহুল আলোচিত ‘দ্য হান্ড্রেড’ গ্রন্থে হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে স্থান দিয়েছেন। মহানবী (সা.)কে বলা হয় সাইয়্যিদুল মুরসালিন। অর্থাৎ, সব নবী ও রাসুলের নেতা। তিনি নিখিল বিশ্বের নবী। তার জন্মের সময় আরব দেশ অশিক্ষা, অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ঘোর তমসায় নিমজ্জিত ছিল।
এ কারণে ওই সময়কে বলা হয় ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকারের যুগ’। ওই বর্বর যুগে পৈশাচিক স্বভাবের কালিমাতে মানুষের মানবিক গুণাবলির অপমৃত্যু ঘটেছিল। সে অবস্থা থেকে মানব জাতিকে মুক্তি দিতে মহান আল্লাহ্ হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে সর্বশেষ রাসুল হিসেবে পৃথিবীতে পাঠান। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ বলেছেন, ‘আমি আপনাকে সারা বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছি।’ মহান আল্লাহ্ পুরো মানবজাতির জন্য সর্বাপেক্ষা কল্যাণকর, পরিপূর্ণ জীবন বিধান সংবলিত পবিত্রতম আসমানি কিতাব ‘আল-কোরআন’ নাজিল করেন মহানবী (সা.)-এর ওপর। প্রতিবছর ১২ই রবিউল আউয়ালকে গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পালন করে মুসলিম বিশ্ব। বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় মিলাদ, জশনে জুলুসসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বাণীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সমপ্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। যিনি মানবজাতির হেদায়েত, কল্যাণ ও মুক্তির জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তার প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। ওদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পক্ষকালব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানটির উদ্বোধনী ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডেন্ট। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সারসহ দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও পীর- মাশায়েখবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল এক বাণীতে তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তার আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তার পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে। পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ওদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন ইসলামী দল, সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে আছে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল, রচনা প্রতিযোগিতা ও জশনে জুলুস ও র্যালি।

