বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল, খালি হচ্ছে তিন গুরুত্বপূর্ণ পদ

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি বিএনপির মহাসচিবের পদে রয়েছেন। মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন এবং এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন। বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকের পর তাঁর প্রার্থিতার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই নির্বাচনে তাঁর জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাঁর বর্তমান তিনটি পদ শূন্য হয়ে যাবে। এর মধ্যে তিনি ইতিমধ্যে দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া খুব শিগগিরই তিনি স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ থেকেও অব্যাহতি নেবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সংবিধানের ৫০ (১) ধারায় রাষ্ট্রপতির মেয়াদ উল্লেখ রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটিও শূন্য ঘোষণা করা হবে এবং সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম আলোচনায় রয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে এবং পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দায়িত্বশীল নেতাদের একাংশের মতে, রিজভী যেহেতু নির্বাচন করেননি বা মন্ত্রিসভায় নেই, তাই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইতিমধ্যে প্রার্থিতার অঙ্গীকারনামায় সই করেছেন। ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধীদের সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারীসহ ৯০। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করা হয়েছে। ফলে প্রায় ৫৬ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল ও ৪৮ বছর বয়সী অলি আহমদের মধ্যে ৯১ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে ভোটের লড়াই হতে পারে।

গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে থাকা অবস্থায় মন্ত্রী থাকা যায় না এবং সংসদ সদস্য পদও ছেড়ে দিতে হয়। অতীতে আবদুর রহমান বিশ্বাস বা আবদুল হামিদের মতো নেতারাও রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে পূর্বের পদ ত্যাগ করেছিলেন। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের সভাকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।