প্রেসিডেন্ট প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আজ বৈঠকে বিএনপি

দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন আজ। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে সরকারি ও বিরোধী দল নিজ নিজ প্রার্থীর নাম নির্বাচন কমিশনে জমা দেবে। বিরোধী জোট আগেই তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও সরকারি দলের প্রার্থীর নাম জানা যাবে আজই। বিএনপি’র দলীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করতে আজ সকালে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে এবং এরপর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন ফরম জমা দেবেন। আগামী ২০শে আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীই বঙ্গভবনে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

দলীয় সূত্রের আভাস অনুযায়ী, শেষ মুহূর্তে বড় কোনো নাটকীয় পরিবর্তন না হলে প্রেসিডেন্ট পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই ঘোষণা হতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে দলের দায়িত্বশীল নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মির্জা ফখরুলই এগিয়ে আছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যদি মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত হয়, তবে তাকে মহাসচিবের দায়িত্ব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে তাকে দেখা গেছে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আবেগময় আলাপ করতে। প্রটোকলের সীমাবদ্ধতা নিয়ে চিন্তিত কর্মীদের তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, দেখা হবে ইনশআল্লাহ্‌।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে পরিচ্ছন্ন ও সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও তিনি সমীহের পাত্র। তবে তিনি বঙ্গভবনে গেলে তার বর্তমান পদগুলো এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। শোনা যাচ্ছে, ডিসেম্বরের জাতীয় কাউন্সিল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভী দায়িত্ব পেতে পারেন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে দেখা যেতে পারে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা অথবা জেলা বিএনপি সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনের নাম আলোচনায় আছে। তবে রিজভী জানিয়েছেন, সব সিদ্ধান্তের মালিক দলের চেয়ারম্যান।

১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণকারী মির্জা ফখরুল অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৯২ সালে জেলা সভাপতি এবং পরবর্তীতে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের জোট সরকারে দায়িত্ব পালনের পর ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে পূর্ণ মহাসচিবের দায়িত্ব পান তিনি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার:১৯৪৮ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (শিক্ষা ক্যাডারের) এর সদস্য হিসেবে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে সরকারি

২০০১ সালে জোট সরকারের আমলে কৃষি প্রতিমন্ত্রী ও বিমান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপি’র ৫ম জাতীয় সম্মেলনে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০১১ সালের ২০শে মার্চ বিএনপি’র তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মৃত্যুর পর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালে