প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান তানজিন তিশা। কিছুক্ষণ নিজের গাড়িতে অপেক্ষা করার পর তিনি আদালতে প্রবেশ করেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী তাকে ঘিরে ধরেন। বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে মামলাটির শুনানি শুরু হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত থেকে বেরিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মামলাটিকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন। তিশা জানান, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সত্যের জয় সুনিশ্চিত।
মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শাড়িটি সম্পর্কে তিশা দাবি করেন, এটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং নিয়ম অনুযায়ী তিনি শাড়িটির প্রচারণার প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেছেন। তার ভাষ্যমতে, তিনি শাড়িটি পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবি প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট পেজটিকে মেনশনও করেছেন।
অভিনেত্রী অভিযোগ করেন, শাড়ি নিয়ে যে ফেসবুক পেজের সাথে তার কথা হয়েছিল, সেই ব্যবসার কথিত মালিক আদালতে উপস্থিত থাকলেও নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। একই বিষয়কে কেন্দ্র করে ফৌজদারি মামলা করাকে তিনি ‘নেগেটিভ মার্কেটিং’ ও প্রচার পাওয়ার কৌশল হিসেবে অভিহিত করেন।
তানজিন তিশা আরও অভিযোগ করেন, ওই নারীর স্বামী সচিব হওয়ায় এই মামলাটিতে ক্ষমতার দারুণ অপব্যবহার করা হয়েছে। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সত্যের কাছে ক্ষমতার বড়াই টেকে না।
উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি সংগ্রহ করেন তানজিন তিশা। শাড়িটির প্রচারণা চালানো ও মূল্য পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

