তারেক রহমানের ভারত সফর: দিল্লির অবস্থান অপরিবর্তিত

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে বা পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকেরা একগুচ্ছ প্রশ্ন করেছেন। এসব প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল তার আগের অবস্থানেই অনড় থেকে উত্তর দিয়েছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ আগেই পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস আউটরিচ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। কোনো অগ্রগতির খবর থাকলে তা জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

চলতি মাসের শুরুতে দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনলাইনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি করার ঘটনায় ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকার এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এরপর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। ওই বৈঠকগুলোতে ঢাকা সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানায়। এরপর দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লি ফিরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কাছে সেই বার্তা পৌঁছে দেন।

আজকের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকেরা বারবার জানতে চান, তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনের আগে না পরে দিল্লি আসছেন। এছাড়া দীনেশ ত্রিবেদীর ঢাকা সফর শেষে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না এবং হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করলে তারেক রহমান ভারত সফর করবেন না এমন কোনো শর্ত বাংলাদেশ দিয়েছে কি না, তা নিয়েও সাংবাদিকেরা প্রশ্ন তোলেন। সব প্রশ্নের উত্তরে জয়সোয়াল পুনরায় জানান, আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো নতুন অগ্রগতি থাকলে তা যথাসময়ে জানানো হবে।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জ্বালানিসংকট নিরসনে বাংলাদেশ ভারত থেকে বাড়তি ডিজেল চেয়েছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়ে জয়সোয়াল বলেন, বিদ্যমান বোঝাপড়া অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করে আসছে। বাড়তি ডিজেলের অনুরোধ ভারতের নিজস্ব প্রয়োজন, শোধনাগারের সক্ষমতা এবং দেশের চাহিদার নিরিখে বিবেচনা করা হবে।