গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই মিছিলের নেপথ্যে অর্থায়ন ও ইন্ধনদাতা হিসেবে সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নাসির উদ্দিনসহ দলটির একাধিক প্রভাবশালী নেতার নাম উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় হঠাৎ ঝটিকা মিছিল বের করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর কৌশল হিসেবে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নগদ অর্থ দিয়ে সংগঠিত করা হচ্ছে। এই মিছিলগুলোতে অংশ নিতে আসা কর্মীরা দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ টাকা এবং যাতায়াত খরচ পেয়ে থাকেন। এসব অর্থের জোগান আসছে সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ-সদস্য, মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের তহবিল থেকে। পলাতক নেতাদের প্রতিনিধি ও সহযোগীরা ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার এই অর্থ লেনদেন তদারকি করছে। এ বিষয়ে হুন্ডি, বিকাশ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া অর্থের লেনদেন রেকর্ড পর্যালোচনা করছেন গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই দেশের বাইরে আত্মগোপনে বা পলাতক রয়েছেন। তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। দেশের বাইরে অবস্থান করেও দেশের জ্বালানি খাতের অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক নাশকতার জন্য তিনি পর্দার আড়াল থেকে অর্থায়ন ও ইন্ধন জোগাচ্ছেন।
গুলশানে বড় ধরনের ঝটিকা মিছিলের ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ ঘটনায় পুলিশের কোনো ব্যর্থতা বা দায়দায়িত্ব ছিল কি না, তা নির্ধারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিসি (সদর দপ্তর) শাহরিয়ার আলী দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটি একটি প্রশাসনিক বিষয় হওয়ায় কমিটির সদস্যদের নাম বা এ সংক্রান্ত অন্য কোনো তথ্য জানানো যাচ্ছে না। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের উপকমিশনার (ডিসি) আকতার হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত কমিটির বিষয়ে সিনিয়ররা তাকে কোনো তথ্য দেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ জানায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বড় ধরনের ঝটিকা মিছিল করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার দিন ও তার পরদিন (১২ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে সরাসরি মিছিলে অংশ নেওয়া ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর ডিএমপির বিশেষ অভিযানে আরও ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হলে মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭২ জনে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল বের করার সময় হাতেনাতে আটক হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থায়ন ও পরিকল্পনার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য মিলেছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে কিছু নাম পাওয়া গেছে এবং তাদের উদ্দেশ্য অনেক বড় ছিল। প্রাপ্ত তথ্যগুলো এখন যাচাই করা হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও তাদের পেছনে থাকা অর্থদাতাদের আইনের আওতায় আনতে ডিবি ও থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

