ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সময় গোয়েন্দা সংস্থা ও দিল্লি পুলিশের ভুল হিসাবের কারণে সোমবার (২০ জুলাই) নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গোয়েন্দা সংস্থা ও দিল্লি পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ছিল, বিক্ষোভে সর্বোচ্চ সাত থেকে আট হাজার মানুষ অংশ নেবে। কিন্তু বাস্তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ জড়ো হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। এ সময় সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী চরম চাপের মুখে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ একাধিক স্থানে ব্যারিকেড বসালেও তা ভেঙে এগিয়ে যায় আন্দোলনকারীরা। পুলিশ সূত্র জানায়, যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানে প্রায় তিন হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা থাকলেও রোববার সন্ধ্যার মধ্যেই সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হয়। সোমবার সকালে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সাত থেকে আট হাজার হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল, তবে দিনের শুরুতেই সেই হিসাব ভেস্তে যায়। সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ) সূত্রও জানিয়েছে, তারাও পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি আশা করেনি।
পুলিশের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় দুই হাজার সদস্য এবং ৩২ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। যন্তর-মন্তরের চারটি প্রবেশপথ, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, রাইসিনা রোড ও ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে বহুস্তরীয় ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়। কিন্তু সোমবার সকালেই প্রায় ১৫ হাজার মানুষ যন্তর-মন্তরে জড়ো হলে দিল্লির ১৪টি জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পাশাপাশি সদর দপ্তর থেকে দুইজন যুগ্ম পুলিশ কমিশনারও দায়িত্ব নেন। নয়াদিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার সচিন শর্মা আন্দোলনের আয়োজকদের সঙ্গে মিছিলের অনুমতি নিয়ে তিন দফা আলোচনা করলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। আয়োজকেরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পুলিশের প্রধান লক্ষ্য ছিল বিক্ষোভকারীদের পার্লামেন্ট ভবনের দিকে অগ্রযাত্রা ঠেকানো। তবে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের পরও তারা ছত্রভঙ্গ না হয়ে বারবার সামনে এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে জুতা, পানির বোতল, পাথর এবং গাছের ডালপালা ছুড়ে মারেন। জবাবে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচি এবং পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই আন্দোলনে জনসমাগম দ্রুত বাড়তে শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত দিল্লির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিক্ষোভে রূপ নেয়।

