মামলা নিষ্পত্তিতে আদালত ও পুলিশের সমন্বয় জোরদারের তাগিদ

মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, তদন্তে গতি আনা, সময়মতো চার্জশিট দাখিল, মেডিকেল ও ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে উপস্থাপন এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে আদালত, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার ঢাকা জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির আয়োজনে অনুষ্ঠিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। জেলার মামলার নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান। সভাটি সঞ্চালনা করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ। সভায় ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, সিআইডির পুলিশ সুপার, পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেল সুপার, সিভিল সার্জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন থানার ওসি, জেলা পিপি, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। ঢাকা জেলা জজ আদালতে এ ধরনের মাত্র চারটি মামলা বিচারের জন্য এসেছে বলে জানানো হয়। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে আইনানুগভাবে চার্জশিট দাখিলের জন্য থানার ওসিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পুলিশ সুপারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। তদন্তে কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকলে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের পর আসামির নাম বা ঠিকানায় ভুল ধরা পড়লে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়ে আলোচনা হলেও মূল অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত ‘সেন্ট-আপ’ আসামি যেন বাদ না যায়, সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মেডিকেল সার্টিফিকেট ও ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত পাওয়ার বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। মেডিকেল প্রতিবেদন চাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন এবং থানা থেকে যথাযথ রিকুইজিশন পাঠানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। চিকিৎসক কর্মরত না থাকলে সংশ্লিষ্ট পদে কর্মরত চিকিৎসকের মাধ্যমে বোর্ড গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। হত্যা মামলায় সুরতহাল প্রতিবেদন, জব্দ তালিকা ও পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন সময়মতো আদালতে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় মেডিকেল পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং ডিজিটাল আলামত ও ইলেকট্রনিক সাক্ষ্য যথাযথভাবে জব্দ ও সংরক্ষণের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও স্বীকারোক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনগত শর্ত ও নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

সভায় সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরদের (এপিপি) নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জেলা পিপির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এছাড়া বিশুদ্ধ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স দিয়ে সহযোগিতার বিষয়টি পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের চারটি লিফটের নিম্নমান ও ঘন ঘন বিকল হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী (ইএম বিভাগ) দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। বিচার কার্যক্রম দ্রুত ও জনবান্ধব করতে আদালত, পুলিশ, কারাগার, মেডিকেল কর্তৃপক্ষ এবং তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়ে সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।