টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ইজতেমা আয়োজন না করার বিষয়ে নিজামুদ্দিনপন্থিরা কোনো মুচলেকা দেয়নি বলে দাবি করেছে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ। সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে যে, পরবর্তী বছর থেকে ইজতেমা না করার বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মুচলেকা দেওয়ার তথ্যটি একটি অপপ্রচার। একই সঙ্গে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে ইজতেমা আয়োজনে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা বন্ধসহ মোট সাত দফা দাবি জানিয়েছে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ইজতেমা ময়দানের মালামাল বুঝে নেওয়ার জন্য নিজামুদ্দিন অনুসারীদের পক্ষ থেকে দুজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা মুচলেকা দেননি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির পত্রেও এ ধরনের কোনো শর্ত আরোপ করা হয়নি। এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পত্রে ইজতেমা না করার শর্ত থাকলেও নিজামুদ্দিন অনুসারীরা তা প্রত্যাখ্যান করে ২৮ জানুয়ারি লিখিতভাবে বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় আগের শর্ত থেকে সরে এসে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ৭৭ নম্বর পত্র জারি করে।
শফিক বিন নাঈম বলেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গী ময়দানে সংঘটিত হতাহতের ঘটনাগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মাওলানা সাদ অনুসারীদের দোষী সাব্যস্ত করে সরকার ও তদন্তকারী সংস্থার ওপর চাপ প্রয়োগ করা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায়। মাওলানা সাদ সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি একজন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ এবং তিনি কখনোই ইসলামবিরোধী বা নবীদের শানে বেয়াদবিপূর্ণ কোনো মন্তব্য করেননি। যারা এ বিষয়ে আপত্তি তোলেন, তাদের সঙ্গে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে তথ্যভিত্তিক আলোচনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সাত দফা দাবিগুলো হলো: ১. টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে মাওলানা সাদ অনুসারীদের জন্য আগামী বিশ্ব ইজতেমার তারিখ অনতিবিলম্বে ঘোষণা করা; ২. টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান সরকারের নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষের ইজতেমা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় তা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া এবং এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে সমতা নিশ্চিত করা; ৩. কাকরাইল মসজিদ ‘তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের’ প্রাপ্য দাবি করে সেটি তাদের বুঝিয়ে দেওয়া; ৪. দেশের সব মসজিদে বাধাহীনভাবে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং কেউ যাতে কাউকে বাধা দিতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারি আদেশ জারি করা; ৫. অপপ্রচার ও মিথ্যাচার রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া; ৬. জুবায়েরপন্থীদের পাঁচজনকে সব অপপ্রচার, মিথ্যাচার ও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী দাবি করে ওই পাঁচজনের আয়-ব্যয়ের তথ্য সংগ্রহ ও মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাদের কথিত অপকর্মের মূলোৎপাটন করা এবং মাওলানা সাদের বক্তব্য কোরআন-সুন্নাহবিরোধী নয়—এই দাবি তুলে সমালোচকদের চ্যালেঞ্জ জানানো।
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ০১আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ০৭

