মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থী এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ করা হয়েছে। জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই একটি সার্কুলারের মাধ্যমে শুধু মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। ওই পরীক্ষায় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ৫৫১ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬৩ জন সুপারভাইজার পদের জন্য অংশগ্রহণ করেন।
পরীক্ষার দিনই ফলাফল ঘোষণার কথা থাকলেও তা ১২ দিন পর অর্থাৎ ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হয়। চূড়ান্তভাবে ৬৬ জন তথ্য সংগ্রহকারী, ৭৩ জন অপেক্ষমাণ এবং সাতজনকে রিজার্ভ রেখে মোট ১৪৬ জনকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়। নিয়োগ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার, সদস্য সচিব সমাজসেবা অফিসার জয় কৃষ্ণ সরকার, সদস্য উপজেলা সমবায় অফিসার সরস্বতী রানী দাস এবং আইসিটি অফিসার আখতারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এই ফলাফলে দেখা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকসহ সক্রিয় সদস্যদের সন্তানদের নাম রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর তথ্যানুযায়ী, চূড়ান্তভাবে মনোনীত ৬৬ জন তথ্য সংগ্রহকারীর মধ্যে ১৪ জন, অপেক্ষমাণ তালিকার ৭৩ জনের মধ্যে ১৭ জন এবং রিজার্ভ তালিকার সাতজনের মধ্যে তিনজন আওয়ামী পরিবারের সক্রিয় নেতা-কর্মীদের সন্তান। এছাড়া উত্তীর্ণ ১৩ জন সুপারভাইজারের মধ্যে তিনজনও একই রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। এমনকি উথলী ইউনিয়নের এক গৃহবধূকে শিবালয় ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিয়োগের বিষয়ে কমিটির সদস্য সচিব জয় কৃষ্ণ সরকার জানান, তিনি সম্প্রতি শিবালয়ে যোগদান করায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তার তেমন কোনো ধারণা নেই। তবে কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার দাবি করেন, সব কিছু যাচাই-বাছাই করেই মেধা অনুযায়ী নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিয়োগ কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দুজন মনোনীত সদস্য ছিলেন এবং ডিজিএফআই-এর তদন্তের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

