কম দামে ইউরিয়া সার সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করল রাশিয়া

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে রাশিয়া এবার কম দামে ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ঢাকায় রাশিয়ান ফেডারেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এই প্রস্তাব দেয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে যেসব দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে, তার তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ ডলার কম দামে সার সরবরাহ করবে রাশিয়া। দেশটি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কাছে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বিক্রির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে সারের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে আশা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া থেকে নিয়মিত গম ও মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার সরবরাহের জন্য দেশটির সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি রাশিয়াকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে আগামী দিনে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য যে, চলতি মাসেই সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় রাশিয়া ও কানাডা থেকে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫১ কোটি ২৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে রাশিয়ার রাষ্টায়ত্ত কোম্পানি প্রোডিনটর্গের কাছ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

সাক্ষাৎকালে রাশিয়ার প্রতিনিধিদল ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং রাশিয়ার প্রোডিনটর্গের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেছে। তারা বাংলাদেশে সূর্যমুখী তেল, হলুদ মটরশুঁটি, ছোলা এবং লাল মসুর ডালসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। উভয় পক্ষই বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।