নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধের দাবিতে প্রজ্ঞা ও আত্মার জোরালো আহ্বান

জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ নিকোটিন পাউচ বাজারজাতকরণের সরকারি উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি-টোবাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)। তামাক কোম্পানিগুলো এই পণ্যটিকে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর বলে দাবি করলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে, নিকোটিন পাউচে তামাকপাতা না থাকলেও এতে উচ্চমাত্রার নিকোটিন থাকে। এই উপাদানটি তীব্র আসক্তি সৃষ্টির পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে এবং হৃদরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম বর্তমানে এসব পণ্যের প্রধান গ্রাহক হয়ে উঠছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং তরুণদের মাঝে আসক্তি রোধে সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও রাশিয়া-সহ কমপক্ষে ১৬টি দেশ ইতিমধ্যে নিকোটিন পাউচ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। অথচ বাংলাদেশে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই পণ্যের মান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রজ্ঞা ও আত্মা জানিয়েছে, বিএসটিআই যে 'ট্যোবাকো এন্ড ট্যোবাকো প্রোডাক্ট টেকিনিক্যাল কমিটি' গঠন করেছে, সেখানে সরকারের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) বা কোনো তামাকবিরোধী সংস্থার প্রতিনিধিত্ব নেই। উল্টো এই কমিটিতে তামাক কোম্পানির প্রতিনিধি যুক্ত রয়েছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রণীত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)-এর আর্টিক্যাল ৫.৩-এর সরাসরি লঙ্ঘন।

সংস্থা দুটির মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের এই উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণার পরিপন্থী, যেখানে তিনি তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন।