চায়ের দোকানে এইচএসসির ৪০০ খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষক আটক

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক-সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন এক শিক্ষক। গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৪০০ উত্তরপত্র জব্দ করা হয়েছে।

আটক শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন (সোহান), যিনি সিলেটের মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক এবং সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একজন পরীক্ষক। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফজলুল হকের চায়ের দোকানে এক বস্তা খাতা নিয়ে বসেছিলেন ইকবাল। সেই সময় তাঁর সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আইরিন লিনজাসহ আরও দুজন বন্ধু খাতা মূল্যায়নের কাজে অংশ নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চায়ের দোকানদার ফজলুল হক জানান, ওই শিক্ষক ও তাঁর সহপাঠীরা নিয়মিতই তাঁর দোকানে চা পান করতে ও আড্ডা দিতে আসতেন। শুক্রবার রাতেও তাঁরা একই দোকানে বসে খাতা দেখেছিলেন। ঘটনার সময় তিনি দোকান গোছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং ভেতরে খাতা দেখার বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলেন।

আইরিন লিনজা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি ওই শিক্ষকের ব্যাচমেট ও বন্ধু হলেও খাতা মূল্যায়নের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল হোসেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তাঁরা রাতে গিয়ে খাতা দেখা অবস্থায় ওই শিক্ষককে ধরে ফেলেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পরীক্ষককে শিক্ষা বোর্ড নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। তবে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়নি। জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং এরপরই বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে যায়। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।