(প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম / 10 September 2026, 12:00 AM)
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে কোনো ধরনের বেআইনি নির্দেশনা দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট গ্যারান্টি দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে খুব শিগগিরই এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
বুধবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে সিইসি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি সেখানে ‘নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারির সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইন মেনে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে সিইসি বলেন, আমরা একদম গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বেআইনি নির্দেশনা যাবে না। পুলিশও আমাদের একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার ওয়াদা করেছে।
নির্বাচন আয়োজনে পুলিশ ও ইসির যৌথ দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজন করা যেমন নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব, তেমনই পুলিশবাহিনীরও সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব হচ্ছে কমিশনকে সহযোগিতার পাশাপাশি একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করা। তিনি দাবি করেন, সিভিল সার্ভিস থেকে শুরু করে পুলিশ ও ইসির ওপর মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা অনেকাংশে পুনরুদ্ধার হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেও আরও ব্যতিক্রমী ও মানসম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর লুট হওয়া সব অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়া এবং বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সিইসি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের সময়ের চেয়ে বর্তমান পরিস্থিতি খারাপ নয়, বরং আরও উন্নতি হয়েছে। পুলিশের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। তারা যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে বদ্ধপরিকর থাকে, তবে তারা সফল হবে এবং অতীতেও তারা তা প্রমাণ করেছে।
স্থানীয় নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে অনেক বেশি প্রার্থী থাকতেন। এমনকি একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে পাড়া-মহল্লা ও গ্রামে গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত। এবারের নির্বাচনে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে লাগসই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দলীয় সরকারের অধীনে পুলিশ চাপমুক্তভাবে কাজ করতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, এটি দলীয় সরকার হলেও একটি গণতান্ত্রিক সরকার। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করার জন্য পুলিশবাহিনীর পক্ষ থেকে ইতিবাচক যত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তার সবই আমরা নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী নেব। গত ছয় মাসে পুলিশের মনোবল ও ভাবমূর্তি ফেরানোর বিষয়ে আইজিপি বলেন, এই সফলতা কতটা এসেছে তা জনগণ ও গণমাধ্যমই বলবে। তবে আমি মনে করি, আমাদের সফলতা শতভাগ।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রথম দিনে ২২০ জন পুলিশ সদস্য প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোদমে এই নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শুরু হবে। এই কর্মসূচির আওতায় মোট ৩৮ হাজার ৮৪৭ জন পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

