স্লিপার বাস চলাচলে বাধা না দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছ থেকে আইন মেনে অনুমোদন পাওয়া বাসগুলো সড়কে চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশনা প্রদান করেন। সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, স্লিপার এসি বাসের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং বাস আটক, জব্দ বা ডাম্পিংয়ের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধের লক্ষ্যে এই আবেদন করা হয়েছিল।

মালিকপক্ষের আইনজীবী মাহফুজার রহমান জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব গাড়ি অমনি বাস হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে বৈধভাবেই সড়কে চলছে। তিনি বলেন, বিআরটিএ-তে স্লিপার বাস হিসেবে আলাদা কোনো ক্যাটাগরি না থাকায় অমনি বাস হিসেবেই এগুলোর রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে। তবে বিআরটিএ গত ১১ আগস্ট এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলে মালিকপক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়।

অন্যদিকে বিআরটিএর আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম আদালতের আদেশের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, বিআরটিএ কোনো স্লিপার বাস বা ডাবল ডেকার বাসের অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন দেয়নি। তার ভাষ্যমতে, অমনি বাস হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে কাঠামো পরিবর্তন করে ডাবল ডেকার স্লিপার বাসে রূপান্তর করা সড়ক পরিবহন আইনের ৪০ ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি দাবি করেন, বিআরটিএ ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন ও ২০২২ সালের সড়ক পরিবহন বিধিমালা অনুযায়ী যেসব বাসের রেজিস্ট্রেশন দিয়েছে, আদালত কেবল সেসব বাসের বিষয়েই আদেশ দিয়েছেন।

সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে গত বছর ১৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান একটি রিট দায়ের করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি আদালত রুল জারি করেন এবং পরবর্তী সময়ে ২ জুলাই বিআরটিএকে স্লিপার বাসের মান যাচাই, অননুমোদিত বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিআরটিএ প্রতিবেদন দাখিল করে এবং বিষয়টি বর্তমানে নজরদারির পর্যায়ে রয়েছে।