প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২: ৪৫। নারায়ণগঞ্জ জেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড লিংক রোডটি আধুনিকায়নের পর এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। যানজট নিরসন ও যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্যে প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয় লেনে উন্নীত করা হয়, যার কাজ শেষ হয় ২০২৫ সালের জুনে। প্রকল্পের আওতায় সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনেও বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে; সড়কের ডিভাইডারে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন ফুলের গাছ এবং বসানো হয়েছে প্রায় ৭০০ সড়ক বাতি।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ২০২০ সালে ৮ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি হাতে নেয়। প্রাথমিকভাবে ৩৬৪ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকার প্রকল্পটির ব্যয় পরবর্তীতে ৪৮৯ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। তবে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বিশেষ করে চাঁনমারী থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত প্রায় ৪৫০ মিটার অংশ সংকীর্ণ হওয়ায় সেখানে নিয়মিত যানজট লেগে থাকছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ রিয়া গোপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে, জালকুড়ি যুব উন্নয়ন, ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড ও মাহমুদপুর বাসস্ট্যান্ডের সামনে সড়কের ওপর ময়লার বিশাল স্তূপ তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যানে করে ময়লা এনে এখানে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে সার্ভিস লেনটি বন্ধের উপক্রম। পথচারীদের অভিযোগ, বাসাবাড়ির ময়লার পাশাপাশি হাসপাতালের বর্জ্যও এখানে ফেলা হয়, যা থেকে দুর্গন্ধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
ভূইগড় বাজারের ক্ষুদ্র দোকানি নাইফ ইসলাম বলেন, রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় ময়লা ফেলায় দুর্গন্ধের কারণে হাঁটাচলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ময়লা পচে পোকা জন্মে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, লিংক রোডে ময়লা ফেলা বন্ধে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মাধ্যমে নির্ধারিত স্থানে ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, তারা পুরো লিংক রোড পরিষ্কার রাখতে চান যাতে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করলেই মানুষের মনে একটি ভালো ধারণা তৈরি হয়।

