সিএনজি পাম্পে অবৈধ গ্যাস বিক্রি বন্ধসহ ৫ দাবি জানাল পরিষদ

সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে অবৈধভাবে খোলা ক্যাসকেড সিলিন্ডারে গ্যাস বিক্রি বন্ধ এবং সার্বক্ষণিক গ্যাস সরবরাহের দাবি জানিয়েছে ‘২৪ ঘণ্টা সিএনজি (গ্যাস) সরবরাহ বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদ’। তাদের দাবি, গ্যাস সংকটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে পরিবহন খাতে প্রতিদিন প্রায় ১২৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে এবং ৯ কোটি কর্মঘণ্টা অপচয় হচ্ছে।

পরিষদের আহ্বায়ক বেলাল আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি জানান, ২০০২ সালে দেশে পরিবেশবান্ধব সিএনজিচালিত যানবাহনের যাত্রা শুরুর পর বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ গাড়ি সড়কে চলাচল করছে। কিন্তু মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে ন্যূনতম ১৫ পিএসআই চাপ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪-৫ পিএসআই।

তিনি অভিযোগ করেন, এই সংকটময় সময়ে এক শ্রেণির অতিমুনাফালোভী পাম্প মালিক রাতের আঁধারে এবং সরকার নির্ধারিত বন্ধের সময়ে (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা) অবৈধভাবে কাভার্ডভ্যান ও ক্যাসকেড সিলিন্ডারে গ্যাস পাচার করছে। গ্যাস আইন-২০১০ এবং বিপণন নিয়মাবলি-২০১৪ অনুযায়ী পাম্প থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও তা মানা হচ্ছে না। এছাড়া বিকেএমইএ পাম্প থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে শিল্পের জন্য গ্যাস নেওয়ার যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পরিষদ।

১. দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রেখে যানবাহনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

২. পাম্প থেকে অবৈধভাবে সিলিন্ডারে ও কাভার্ডভ্যানে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. সিএনজি স্টেশনগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত ৪.৫০ শতাংশ গ্যাসের জন্য পৃথক লাইন স্থাপন করতে হবে, যেন তা অন্য খাতে ব্যবহার করা না যায়।

৪. কেবল বৈধ সিএনজিচালিত যানবাহনেই গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

৫. ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে গ্যাস দেওয়া, ভিআইপি সুবিধা বাতিল, কৃত্রিম সংকট ও মিটার কারসাজি রোধ এবং ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব মো. গোলাম ফারুকসহ সিএনজিচালিত পরিবহন খাতের মালিক ও শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।