চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবনে চরম মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার কবলে পড়ে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং রাস্তাঘাটসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়েছে। এই সংকটাপন্ন সময়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সীতাকুণ্ড উপজেলা ও পৌর বিএনপি।
শুক্রবার বিকেল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে দলটি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রাণ বিতরণের আগে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বন্যাকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেন। এই তালিকার ভিত্তিতে বিকেল সাড়ে ৩টায় সৈয়দপুর ইউনিয়ন, সাড়ে ৪টায় বারৈয়াঢালা ইউনিয়ন এবং বিকেল সাড়ে ৫টায় সীতাকুণ্ড পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ত্রাণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সীতাকুণ্ড উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির তত্ত্বাবধানে ২১ সদস্যের একটি বিশেষ ত্রাণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আলহাজ্ব নুরুল আনোয়ার চেয়ারম্যান এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন আলহাজ্ব নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোরসালিন জানিয়েছেন, এটি কেবল একদিনের কোনো কর্মসূচি নয়। উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ধারাবাহিকভাবে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে। কোনো পরিবার যাতে সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী। এছাড়া ত্রাণ কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর, যুগ্ম আহ্বায়ক সালামতুল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব ফজলুল করিম চৌধুরী, পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব ছালে আহমদ, ইউসুফ নিজামী, মুজাহির উদ্দিন আশরাফ, জিয়াউদ্দিন জিয়া প্রমুখ।

