দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত হলেও বরিশালের বাকেরগঞ্জে তা পালন করা হয়েছে অত্যন্ত দায়সারাভাবে। চলতি বছরের ২ জুলাই এক পরিপত্রে প্রতি বছর ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালনের জন্য যথাযথ নির্দেশনা থাকলেও বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে ছিল চরম অবহেলা ও উপেক্ষার ছাপ। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে নামেমাত্র একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
জুলাই শহীদ ওয়াদুদ ও রাসেল তালুকদারের পরিবার জানিয়েছে, উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে তারা কিছুই জানত না। জুলাই মাসে নিহত উপজেলার ছয়জন শহীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বা কবর জিয়ারতের কোনো উদ্যোগও প্রশাসন নেয়নি। এমনকি প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কোনো ফোনও দেওয়া হয়নি, শুধুমাত্র ইউএনও’র অফিস সহকারী শহিদুল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তা পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছেন।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী নুসরাত জাহান জ্যোতি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা বিলোপের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের গুলিতে শহীদ হন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাদের অনেককেই এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি বলেন, যাদের রক্তের বিনিময়ে বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব পেয়েছে, তাদের প্রতি এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। এছাড়া, নিয়ম অনুযায়ী সব মসজিদে বিশেষ দোয়া ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার কথা থাকলেও বাকেরগঞ্জে এমন কোনো আয়োজন চোখে পড়েনি।
প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান সালাম জানান, পেশাদার সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এদিকে, বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আহমেদ জানান, বুধবার তাকে ফোন করে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিতে বলা হয়েছিল। তিনি প্রশাসনের এই দায়সারা আয়োজনের তীব্র সমালোচনা করেন।
নিহতদের পরিবারের অনুপস্থিতি ও অনুষ্ঠানের মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল দাবি করেন, শহীদ পরিবার ও গেজেটভুক্ত সকলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানের দায়সারা আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ছাত্রদল নেতা তাহমিদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। শহীদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত সরকারের এই দিবসে প্রশাসনের এমন উদাসীনতায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জুলাই শহীদ ওয়াদুদ ও রাসেল তালুকদারের পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠান সম্পর্কে তারা অবগত নয়। জুলাইতে নিহত উপজেলার ৬ জন শহীদের কারো কবর জিয়ারত তো দূরের কথা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে কেউ তাদের ফোন দিয়ে খোঁজ নেয়নি। শুধু হোয়াটসআপ গ্রুপে ইউএনও'র অফিস সহকারী শহিদুল ইসলাম একটি
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী নুসরাত জাহান জ্যোতি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে জীবনের মায়া ত্যাগ করে সর্বপ্রথম তিনিসহ ১০-১২ জন বৃষ্টিতে ভিজে পৌর শহরে মিছিল করেছিলেন। অথচ আজ তিনি জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাননি। যাদের রক্তের ওপর দিয়ে মিলটন চন্দ্র পালের মতো আমলারা নতুন বাংলাদেশে ইউএনওর দায়িত্ব পেয়ে

