ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পর্যায়ের আর্থিক অভিযানের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে ‘এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান’ চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি দাবি করেছেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার যুদ্ধ এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ প্রবেশ করেছে।

বেসেন্টের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছে। এই পদক্ষেপকে তিনি ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আর্থিকভাবে লেনদেন বা ব্যবসা করা যেকোনো দেশকেও আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হবে।

এর আগে বৃটিশ গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধে বেসেন্ট এই নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। মার্কিন স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ১টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে।

বেসেন্ট তার নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, তেহরান সম্পূর্ণ একা হয়ে না পড়া পর্যন্ত তাদের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন বিচ্ছিন্ন করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য।

এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হুমকি দিয়েছে যে, যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তারা ওই অঞ্চল থেকে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রেও ইরান নতুন সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে চলাচল না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইরান কার্যত এই নৌপথের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।