ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ছয় মাসে গড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করেছেন যে, কেবল বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরানকে পরাস্ত করার সম্ভাবনা খুবই কম। তাঁর মতে, সংঘাত আরও জোরদার করার জন্য যেসব সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ড্যান কেইন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করছেন। এই লক্ষ্য নিয়ে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের আগেই যুদ্ধের ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতাগুলো নিয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা ড্যান কেইনকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, তিনি নিয়মিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিরপেক্ষ ও সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন। তবে কেইনের এই অবস্থানের সঙ্গে ট্রাম্পের কঠোর হুংকারের কিছুটা অমিল রয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তি না হলে ইরানে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছিলেন, যদিও নানামুখী চাপে তিনিও যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন।
গত মাসের শেষ দিকে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সামনে কেইন স্বীকার করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদেশগুলোও মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্র মজুত কমে যাওয়ায় ইরান পাল্টা হামলা চালালে তা ঠেকানো কঠিন হতে পারে। জুলাইয়ের শেষ দিকে ইরানে হামলা বাড়ানোর একটি পরিকল্পনা সেন্টকম এবং ইসরায়েল সমর্থন করলেও, মিত্রদেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসেন।
জেনারেল কেইন মনে করেন, ইরানের বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামো বা সেতুতে হামলা চালালে উল্টো ফলাফল হতে পারে। এতে ইরানের জনগণ তাদের সরকারের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হয়ে উঠতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি ট্রাম্পকে এও জানিয়েছেন যে, যদি হামলা চালিয়ে যেতেই হয়, তবে ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার মতো বড় পদক্ষেপ নিতে হবে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমানে পেন্টাগন ও সেন্টকম যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার এমন একটি কৌশলের সন্ধান করছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি ‘প্রতীকী বিজয়’ হিসেবে গণ্য হবে। এর মাধ্যমে কূটনৈতিক সমঝোতার সুযোগ বজায় রেখে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি চুক্তিকে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

