কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। আমেরিকান গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদের ক্ষেত্রে কানাডা বৈষম্যমূলক আচরণ করছে—এমন অভিযোগ তুলে সোমবার (২০ জুলাই) তিনি এই বড় সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে।

এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয় এবং কানাডা দেশটির বাণিজ্যযুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু। এই নতুন শুল্কের ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নতুন এই শুল্কের আওতায় ওয়াইন, হকিস্টিকের মতো ভোক্তাপণ্য এবং সিমেন্টের মতো শিল্পপণ্য রয়েছে। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং মাছসহ কানাডার কয়েকটি প্রধান রপ্তানিপণ্য এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।

ট্রাম্পের এই একতরফা পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে অটোয়া। এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা ‘আরও জোরদার’ করতে কানাডা প্রস্তুত রয়েছে। এই শুল্ক আরোপের সময় যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় পণ্যগুলো রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা হয়নি। অর্থাৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় থাকুক বা না থাকুক, এই শুল্ক দিতেই হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, ‘ইউএসএমসিএর সরাসরি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র যে একতরফা পদক্ষেপগুলো নিয়ে আসছে, এটি তার সর্বশেষ উদাহরণ।’ তিনি কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকির বিষয়টিও সামনে এনেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার কথা বলেছিলেন, সম্ভবত সে প্রেক্ষাপটেই কার্নি এ কথা বলেছেন। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডও এক্সে লিখেছেন, যদি এই শুল্ক শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়, তবে কানাডারও উচিত শুল্কের বদলে শুল্ক এবং ডলারের বদলে ডলার দিয়ে কড়া জবাব দেওয়া।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের বাণিজ্য বাধা চরম রূপ নেবে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর ১৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর রেখেছে। এছাড়া কানাডীয় নরম কাঠের ওপর ৩৫ শতাংশ ও গাড়ির অ-মার্কিন যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ কর বহাল রয়েছে। এর জবাবে কানাডাও মার্কিন ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও নির্বাচিত যানবাহনের ওপর নিজস্ব ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বজায় রেখেছে।

সম্প্রতি কানাডার দাবানলের ধোঁয়া মার্কিন শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডাকে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্প কার্নিকে ‘আমেরিকার বাতাস বিষাক্ত করার’ দায়ে সতর্ক করেছিলেন। যদিও প্রজ্ঞাপনে এই কারণটি আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবে শুল্ক আরোপের সময়টি কাকতালীয় নয় বলেই ধারণা করা হচ্ছে।