ভারতের মাটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা বিবৃতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে নতুন দিল্লি। প্রতিবেশীদের স্বার্থবিরোধী কাজে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে ভারত জানিয়েছে, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য বা অবস্থান সম্পূর্ণই তার ব্যক্তিগত বিষয়। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের অনুরোধটিও ভারতের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সম্প্রতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফিরতে পারেন বলে মন্তব্য করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ভারত থেকে দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হতে পারে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংসদীয় কমিটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটি সরকারকে মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রেখে এই সংবেদনশীল পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দ্রুত ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করারও সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়া সীমিত থাকায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে পর্যটক ভিসা স্থগিত করার প্রায় দুই বছর পর ২০২৬ সালের ২৮ জুন ভারত বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় পর্যটক ভিসা চালু করে।
সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। চলতি বছর চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে কমিটি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দ্রুত নবায়ন আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে। কমিটির মতে, হালনাগাদ জলপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে নতুন আলোচনা শুরু করা উচিত।

