হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার প্রস্তাব দিল ওমান

হরমুজ প্রণালি ঘিরে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এবং লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অলিখিত অবরোধের প্রেক্ষাপটে একটি নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ওমান। উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওমান হরমুজ প্রণালি পরিচালনার জন্য ইরানের কাছে একটি যৌথ আঞ্চলিক ব্যবস্থার প্রস্তাব পেশ করেছে। গত সপ্তাহান্তে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে এই প্রস্তাবটি তুলে ধরা হয়।

ওমানের এই প্রস্তাবের মূলে রয়েছে মালাক্কা প্রণালি পরিচালনার মডেল। ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের সংযোগস্থল মালাক্কা প্রণালিটি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। ওমানের প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে স্বেচ্ছায় একটি তহবিলে অর্থ প্রদানের কথা বলা হয়েছে। এই তহবিলের অর্থ দিয়ে নৌপথ পরিচালনা, পরিবেশ রক্ষা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমের ব্যয় নির্বাহ করা হবে। সূত্রটি জানিয়েছে, আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থন রয়েছে এই প্রস্তাবে।

ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্য দীর্ঘদিনের। যুদ্ধের আগের মতো অবাধ জাহাজ চলাচল পরিস্থিতি আর সম্ভব নয় বলে ইরান দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা ইরানের কাছে কোনো বাধ্যতামূলক ফি প্রদানের ব্যবস্থা মেনে নেবে না।

গত সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরাঘচি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে যৌথ কূটনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। উল্লেখ্য যে, যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট অশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হতো, যা বর্তমানে সংঘাত ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।