গুগলের বিশেষ অফার: শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে পাবেন জেমিনাই প্রো ও ৪০০ জিবি স্টোরেজ

গুগলের ‘ব্যাক টু স্কুল’ প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষার্থীরা এক বছরের জন্য সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ‘জেমিনাই প্রো’ এবং ৪০০ জিবি ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। বাংলাদেশের যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এই বিশেষ সুবিধাটি সচল করতে পারবেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেইন ভিউ শহরে প্রধান কার্যালয় অবস্থিত বহুজাতিক প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল ইনকরপোরেটেড মূলত ইন্টারনেট ও সফটওয়্যার সেবাদাতা হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রসিদ্ধ। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন ১৯৯৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ১৯ আগস্ট কোম্পানিটি শেয়ার বাজারে (আইপিও) তালিকাভুক্ত হয়। ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিনের সঙ্গে এরিক স্কমিট ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছর গুগলে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ২০০৬ সালে এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি তাদের মাউন্টেইন ভিউ কার্যালয়ে স্থানান্তরিত হয়। 'বিশ্বের সব তথ্য সন্নিবেশিত করে সবার জন্য সহজলভ্য করে দেওয়া'—এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা গুগলের অপ্রাতিষ্ঠানিক স্লোগান হলো ‘Don't be evil’।

গুগলকে সাধারণত আমরা সার্চ ইঞ্জিন হিসেবেই চিনি, যার বাজার হিস্যা ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৯১ দশমিক Coxeter শতাংশ। তবে সার্চ ইঞ্জিনের বাইরেও জিমেইল, গুগল ডকস, ইউটিউব, ড্রাইভ, প্লে স্টোর, ক্যালেন্ডার, ম্যাপস, ট্রান্সলেটর এবং ব্লগারের মতো অসংখ্য প্রয়োজনীয় অনলাইন সেবা দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ক্রোম ব্রাউজার, পিকাসা ও হ্যাংআউটের মতো ডেস্কটপ সফটওয়্যারের পাশাপাশি অ্যান্ড্রয়েড ও ক্রোম ওএসের মতো শক্তিশালী অপারেটিং সিস্টেমও গুগলের তৈরি। তাদের ইলেকট্রনিকস পণ্যের তালিকায় রয়েছে গুগল গ্লাস, পিক্সেল ২ মোবাইল ফোন, পিক্সেল বুক, গুগল হোম স্পিকার এবং গুগল ওয়াই-ফাই।

গুগলের আয়ের সিংহভাগ বা প্রায় ৯৯ শতাংশ আসে বিজ্ঞাপন থেকে, যা মূলত তাদের ‘এডওয়ার্ডস’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ২০১৭ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করার কথা জানিয়েছিল। প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন উদ্ভাবন, অংশীদারত্ব ও বিভিন্ন কোম্পানি অধিগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে নিজেদের বহুমুখী অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছে গুগল। তারই ধারাবাহিকতায় এবার শিক্ষার্থীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রিমিয়াম সুবিধা ও বিশাল স্টোরেজ ব্যবহারের এই আকর্ষণীয় সুযোগ নিয়ে এসেছে তারা।