গোলাপগঞ্জে প্রবাসী ও বিএনপি নেতার বাড়ি পোড়ালেও ৬ দিনেও মামলা হয়নি

গত ১৭ই আগস্ট ভোরের আলো ফোটার আগেই গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমুরা ইউনিয়নের ধারাবহর গ্রামে একটি বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে সৌদি প্রবাসী মুক্তা আহমদ ও তার ভাই শ্রমিক দল নেতা মান্না আহমদের বংশ পরম্পরায় বসবাস করা বাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা প্রাণে রক্ষা পেলেও ঘরের কোনো আসবাবপত্র বাঁচানো সম্ভব হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পৌঁছালেও আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে নিমিষেই সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়, যা পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ডের দিকেই ইঙ্গিত করে।

ঘটনার দুদিন পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে মান্না আহমদ গোলাপগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এতে বাড়ির পার্শ্ববর্তী লেকভিউ হাউজিংয়ের স্বত্বাধিকারী শরীফ উদ্দিন ও তার লাঠিয়াল বাহিনীর প্রধান জালাল উদ্দিনসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মান্নার অভিযোগ, শরীফ উদ্দিন ও তার লোকজন তাকে প্রায়ই প্রাণনাশের হুমকি দিতেন এবং ঘটনার দিন তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে আগুন লাগানোর সময় তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখেছিলেন।

তবে এজাহার দেওয়ার পর থেকেই বিষয়টি রহস্যময় হয়ে ওঠে। পুলিশ এজাহারে উল্লিখিত আসামিদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলা রেকর্ড করতে গড়িমসি করছে। গোলাপগঞ্জ থানার ওসি সবেদ আলী জানান, ঘটনার দিনের বক্তব্যের সাথে এজাহারের তথ্যের অমিল থাকায় তারা প্রাথমিক অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পুলিশের এই একপেশে আচরণের অভিযোগ তুলেছে।

সিলেট-৬ আসনের এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মামলা রেকর্ড করার জন্য পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এজাহারের ভিত্তিতেই তদন্ত চলছে। স্থানীয়দের মতে, এলাকায় একটি দমবন্ধ পরিবেশ বিরাজ করছে। হাউজিং ব্যবসা ও পাহাড়-টিলা কাটা নিয়ে শরীফ উদ্দিনের সাথে মান্না ও তার পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এছাড়া শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্থানীয় হাফিজ আল মাহমুদ চৌধুরীর জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে।

শরীফ উদ্দিন অবশ্য অগ্নিকাণ্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, তিনি ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন না। এদিকে প্রবাসী মুক্তা আহমদ জানিয়েছেন, শরীফ উদ্দিনের প্রভাবের কারণে এতদিন তারা মুখ খুলতে ভয় পেলেও এখন পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এজাহার দিয়েছেন, যার ফলে তারা এখন নতুন করে হুমকির মুখে রয়েছেন।