চলতি শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে ভর্তির আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনের সুযোগ পাবেন। ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।
ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাছাই বা পৃথক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই মেধাতালিকা তৈরি করে ভর্তি সম্পন্ন করা হবে। ভর্তি প্রক্রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। বাকি ৭ শতাংশ আসন কোটার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
কোটা পদ্ধতির মধ্যে ৫ শতাংশ আসন মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। এছাড়া ২ শতাংশ আসন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১ শতাংশ মন্ত্রণালয় এবং ১ শতাংশ অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা সনদের সত্যায়িত কপি এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা না পাওয়া গেলে ওই আসনগুলো খালি না রেখে মেধা তালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে। এই কোটা পদ্ধতি কেবল ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য কার্যকর হবে।
পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে যাদের ফলাফল পরিবর্তিত হয়েছে, তারাও আবেদনের সুযোগ পাবেন। ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যারা ফল পাবেন, তারা আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদনের পাশাপাশি পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত ভর্তি নিশ্চায়নের সময় পাবেন শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চিত না করলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মূল ভর্তি কার্যক্রম চলবে।
মেধাতালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সমান জিপিএ প্রাপ্তদের মোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে। তা ছাড়া বিভিন্ন সালের গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে।
বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে সমান নম্বর হলে সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর দেখা হবে। সেখানেও জটিলতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর দেখা হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে সমান নম্বর হলে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে। বিভাগ পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও জিপিএ একই হলে মোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে এবং জটিলতা নিরসনে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর দেখা হবে।

