মহেশখালীতে গোলরক্ষক সাঈদীর ওপর হামলা, উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে

কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে হামলার শিকার হয়েছেন জেলার জনপ্রিয় ফুটবলার ও ‘বাজপাখি’ খ্যাত গোলরক্ষক সাঈদী। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর বড়ছড়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় সাঈদীকে উদ্ধার করে প্রথমে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ফুটবলার সাঈদীর সঙ্গে হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর কাশেম চৌধুরীর ভাইপো নিহালের তর্ক-বিতর্ক হয়। এই বিরোধের জেরে ঘটনার আগের রাতেও তাঁদের মধ্যে এক দফা মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে নিহাল সামান্য আহত হয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শুক্রবার দুপুরে বড়ছড়ার একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন সাঈদী। পথে নিহালসহ কয়েকজন তাঁর গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সাঈদী গুরুতর জখম হন। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলায় সাঈদীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সেখান থেকে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়。

এদিকে এই হামলার পেছনে হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর কাশেম চৌধুরীর ছেলে মিরাজের ইন্ধন থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে মিরাজের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাঈদী মহেশখালীর ক্রীড়াঙ্গনে অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় একজন খেলোয়াড়। গোলপোস্টের নিচে তাঁর অসাধারণ ও দুর্দান্ত সেভ করার দক্ষতার কারণে স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তিনি ‘বাজপাখি’ নামে পরিচিতি পান। শুধু মহেশখালীই নয়, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানেও তিনি দক্ষতার সঙ্গে গোলবার সামলে নিজের এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর মতো একজন উদীয়মান তরুণ ক্রীড়াবিদকে এভাবে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হতে দেখে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি সাধারণ ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন খেলোয়াড়কে মারাত্মকভাবে আহত করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদঘাটন করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং আহত গোলরক্ষক সাঈদীর সুচিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।