চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ডেইরি খামারিদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মাস অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএফএফএ)। সংগঠনটির উদ্যোগে বন্যাকবলিত চারটি উপজেলায় মোট ৪০০ বস্তা গোখাদ্য হিসেবে গমের ভুসি বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের দোহাজারী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মজুপাড়ায় এই গোখাদ্য বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সার্বিক সহযোগিতা ও আয়োজনে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ডেইরি খামারিদের হাতে গোখাদ্য তুলে দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় এই অঞ্চলের কৃষক ও ডেইরি খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকার সবসময় ক্ষতিগ্রস্ত এসব খামারিদের পাশে রয়েছে। গবাদিপশুর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, টিকাদান এবং গোখাদ্য বিতরণের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত ডেইরি খামারিদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর জানান, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মাস অ্যাসোসিয়েশন বন্যাকবলিত ৪টি উপজেলায় ৪০০ বস্তা গোখাদ্য বিতরণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা যাতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
চন্দনাইশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌসী আকতার বলেন, বন্যায় উপজেলার অনেক ডেইরি খামারের ঘাসের মাঠ ও খামারিদের জমিয়ে রাখা গোখাদ্য নষ্ট হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের মাঝে গোখাদ্য বিতরণ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর একটি উদ্যোগ। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারিদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মালিক মোহাম্মদ ওমর বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ডেইরি খামারিরা বর্তমানে গোখাদ্যের অভাবে তীব্র সংকটে পড়েছেন। এই দুর্যোগের সময় তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই আমরা চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, কর্ণফুলী ও বাঁশখালী উপজেলায় ১০০ বস্তা করে মোট ৪০০ বস্তা গমের ভুসি বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের হাতে এই গোখাদ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আনোয়ার উল্লাহ পাভেল, নুরুল হুদা, যুগ্ম সম্পাদক কাউসার শাহ, আব্দুর রাজ্জাক রাজন এবং আইন বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় কর্মকর্তা ও খামারিবৃন্দ।

