পুলিশে নিয়োগ, পদোন্নতি এবং পোস্টিং নিয়ে বাণিজ্য নতুন কোনো বিষয় নয়, তবে ইদানীং এটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। বাড়তি সুবিধা ছাড়া বর্তমানে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের খবর, যারা রীতিমতো অফিসারদের কেনাবেচায় লিপ্ত। এই সিন্ডিকেট এলাকাভিত্তিতে দরদাম ঠিক করে থাকে। অতি সম্প্রতি একজন জেলা পুলিশ সুপারকে তিন কোটি টাকার বিনিময়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—এমন খবরও চাউর হয়ে আছে।
ওসি থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার পর্যায়ের নিয়োগ বাণিজ্য বর্তমানে বেশ জমজমাট। বিশেষ করে যে সব জেলায় মাদকের বিস্তার বেশি, সেসব এলাকায় পোস্টিং বাণিজ্যের কারবারটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়মনীতি না থাকার সুযোগে এই অশুভ চক্রের বিস্তৃতি দিন দিন বাড়ছে। আগে তদবিরের মাধ্যমে এসব কাজ হলেও বর্তমানে তদবিরেও খুব একটা কাজ হয় না।
যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি বা পোস্টিং হওয়ার নজির এখন খুবই বিরল, আর হলেও তা অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। অনেক দক্ষ কর্মকর্তা বদলি বা পদোন্নতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যারা এই প্রক্রিয়ায় টিকে আছেন, তাদের বড় একটি অংশকে ভিন্নপথে হাঁটতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাঠ প্রশাসনে। গত ৫ই আগস্টের পর থেকে পুলিশ প্রশাসনে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কাটেনি। প্রশাসনে এখনো আস্থা ফেরেনি, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং খুন-খারাবির মতো অপরাধের ঘটনা বাড়ছে। এই সব দায় এখন বর্তমান প্রশাসনের ওপর বর্তাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের গত ১৮ মাসে পুলিশকে কার্যকরভাবে ঘুরে দাঁড়াতে তেমন কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি, বরং মব সন্ত্রাসের কাছে প্রশাসন অনেকটা কাবু ছিল, যার প্রভাব পুলিশ বাহিনীর ওপরও পড়েছে।

