নতুন পে-স্কেল গেজেট প্রকাশ নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতার শঙ্কা

নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেলের গেজেট আগামী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জারি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি জারির আগে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরপর এসআরও নম্বরসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তা প্রকাশের কথা। এই প্রক্রিয়াগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা নিয়ে তোড়জোড় চলছে, যার ফলে নির্ধারিত দিনে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে নতুন সময়সীমা হিসেবে রোববারকে নির্ধারণ করা হয়। নতুন এই কাঠামোয় ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডে বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ। এছাড়া দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে, যা সরকারের মতে বেতন কাঠামোয় ন্যায্যতা ও ভারসাম্য আনবে।

নতুন এই বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও পুরো সুবিধা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে এটি কার্যকর করা হবে। এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে বেসরকারি খাত ও সংবাদমাধ্যমেও নতুন বেতন কাঠামো জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি খাতে অপ্রয়োজনীয় লোকবল কমিয়ে ব্যয় সংকোচনের পরামর্শও রয়েছে।