আইরিশ পরিচালক মার্টিন ম্যাকডোনার নতুন সিনেমা 'ওয়াইল্ড হর্স নাইন' হলিউডের দর্শকদের মধ্যে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিভিন্ন সিনেমায় দুই ভিন্ন বয়সী মানুষের অদ্ভুত সম্পর্ক, তর্ক আর সংঘাত ফুটিয়ে তোলার জন্য পরিচিত ম্যাকডোনা এবার তার নতুন ছবিতে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। জন মালকোভিচ ও স্যাম রকওয়েল অভিনীত এই ছবিটি একদিকে রসাত্মক, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে বেশ তীক্ষ্ণ। পরিচালক নিজেই এটিকে তার সবচেয়ে রাজনৈতিক সিনেমা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে তার 'ইন ব্রুজেস' এবং নয়টি অস্কার মনোনয়ন পাওয়া 'দ্য ব্যানশিজ অব ইনিশেরিন' ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
সিনেমাটির গল্প ১৯৭৩ সালের চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। সেখানে কর্মরত দুই সিআইএ কর্মকর্তা ক্রিস ও লি, যারা চিলির সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সালভাদর আয়েন্দেকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। তাদের দায়িত্বের মধ্যে ছিল বিদেশি সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং বামপন্থী হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের হত্যা করা। তবে অবসরের সময় ঘনিয়ে আসায় ক্রিসের মনে প্রশ্ন জাগে, এত বছর ধরে যেসব হত্যা ও অভ্যুত্থানে তিনি অংশ নিয়েছেন, সেগুলো কি সত্যিই বৃহত্তর স্বার্থে করা হয়েছিল? এই বিবেকের দ্বন্দ্বই সিনেমার মূল বিষয় হয়ে ওঠে।
গল্পের এক পর্যায়ে ক্রিস ও লি ছুটিতে ইস্টার আইল্যান্ডে যান। সেখানে পর্যটনে আগ্রহ না দেখিয়ে ক্রিস নিজের স্মৃতিকথা লেখার কাজে মন দেয়। কিন্তু সমস্যা হলো, সে অচেনা মানুষদের কাছেও নিজের গোপন কর্মকাণ্ডের কথা ফাঁস করতে শুরু করে। এতে সিআইএর সান্তিয়াগো প্রধান এমজে চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং লিকে নির্দেশ দেন যেন ক্রিস জীবিত অবস্থায় দ্বীপ থেকে ফিরতে না পারে। সিনেমার পরতে পরতে গণতন্ত্র, বন্ধুত্ব এবং মানুষের বিবেক নিয়ে দীর্ঘ কথোপকথন উঠে এসেছে।
ক্রিসের চরিত্রে জন মালকোভিচ তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার পরিচিত রহস্যময় উপস্থিতির পাশাপাশি এখানে একজন ভঙ্গুর ও অনুতপ্ত মানুষের মুখ ফুটে উঠেছে, যা তাকে আগামী অস্কারে সেরা অভিনেতার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। হলিউডের সিনেমায় সিআইএকে কখনো নায়ক, আবার কখনো খলনায়ক হিসেবে দেখানো হয়েছে। জন মালকোভিচ নিজেও এর আগে 'ইন দ্য লাইন অব ফায়ার' বা 'বার্ন আফটার রিডিং'-এর মতো সিনেমায় সিআইএ-সংশ্লিষ্ট চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে 'ওয়াইল্ড হর্স নাইন' আরও সরাসরি সমালোচনা করেছে, যেখানে দেখানো হয়েছে সিআইএ কর্মকর্তারা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলেও তার ফল ভয়াবহ ও অন্যায্য। শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি শুধু একটি গুপ্তচর-কাহিনি নয়, বরং আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি ও ক্ষমতার রাজনীতি নিয়ে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন ছুড়ে দেয়।
জন মালকোভিচ নিজেও এর আগে সিআইএ-সংশ্লিষ্ট চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৯৩ সালের ‘ইন দ্য লাইন অব ফায়ার’ সিনেমায় তিনি সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেন। ‘বার্ন আফটার রিডিং’ সিনেমাতেও তাকে দেখা যায় এক সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ভূমিকায়, যে নিজের স্মৃতিকথা প্রকাশ করতে চায়।

