প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ২৮। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) কমোডিটি মার্কেট চালুর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি চলতি মাসেই এই মার্কেটের জন্য ব্রোকারেজ হাউসগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কমোডিটি মার্কেটের জন্য সাতটি ব্রোকারেজ হাউস আবেদন করেছে, যার মধ্যে লংকাবাংলা, বি-রিচ, সোহেল সিকিউরিটিজ, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ, রয়্যাল ক্যাপিটাল, ইউসিবি স্টক ব্রেকারেজ ও এনএলআই সিকিউরিটিজ রয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণসাপেক্ষে ৭ থেকে ১২টি ব্রোকারেজ হাউসকে এই নিবন্ধন দেওয়া হবে।
সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার জানান, কমোডিটি মার্কেট চালুর জন্য তাদের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। বিএসইসির কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যেই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর মধ্য থেকেই মার্কেট মেকারের লাইসেন্স দেওয়া হবে এবং অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। তবে মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান দায়িত্ব নেওয়ার পর কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। গত ৩১ ডিসেম্বর ডিবিএর আলোচনায় তিনি জানান, ব্রোকার নিবন্ধন ও পণ্য অনুমোদনের ছাড়পত্র দেওয়ার কাজ চলছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে চট্টগ্রামে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ পুরোদমে চালু হবে। প্রথম পর্যায়ে স্বর্ণ, রুপা ও তামার অনুমোদন দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে ক্রুড অয়েল, পাম অয়েল ও তুলা যুক্ত হবে। পণ্যগুলোর রেফারেন্স ভ্যালু হিসেবে শিকাগো, লন্ডন বুলিয়ান বা দুবাই মার্কেটের কোনো একটিকে অনুসরণ করা হবে।
অবশ্য সিএসইর কমোডিটি মার্কেট চালুর বিষয়ে শেয়ার ধারণ-সংক্রান্ত একটি জটিলতা রয়েছে। বিএসইসি ২০২৪ সালের মার্চে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর লাইসেন্স দেয়। তখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, কোনো কৌশলগত বিনিয়োগকারী বা তাদের কোনো অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের যদি এমন কোনো ব্রোকারেজ হাউসে শেয়ার থাকে, তবে তা ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এছাড়া ২০২২ সালের নিয়ম অনুযায়ী, লেনদেনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ০.৫১ শতাংশ। সিএসইর কৌশলগত অংশীদার বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবিজি লিমিটেডের মালিকানাধীন একটি ব্রোকারেজ হাউস সিএসইর শেয়ার ধারণ করায় স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এনবিআর কর্তৃক শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা থাকায়, শেয়ারগুলো আপাতত 'ব্লক' রেখে মার্কেট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে এবিজিকে তাদের মালিকানা ছাড়তে হবে। এছাড়া হেজার ক্যাটাগরির আওতায় বড় ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসছে।

