২২৪ কিমি. এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির মহাপরিকল্পনা সরকারের

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম। দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ২২৪ কিলোমিটার মহাসড়কের পুরো অংশকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের আমদানি-রপ্তানি, শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এই করিডরটিতে ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ সামাল দিতেই এই বৃহৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যানজট ও চলাচলজনিত প্রতিবন্ধকতা অনেকাংশে কমে আসবে।

গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপরেখা বাস্তবায়নের এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সড়ক-মহাসড়ক উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তীতে ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ ও সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে এই সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে যেসব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেগুলো চিহ্নিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। বড় মেগা প্রকল্পে অর্থায়নের চাপ কমাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন নেওয়ার কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জেলা ও আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়নকাজ সরকারি অর্থায়নে বা জিওবি’র মাধ্যমে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরের পাশাপাশি দেশের আরও সাতটি প্রধান জাতীয় মহাসড়কের উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব মহাসড়কে এখনো সম্প্রসারণ শুরু হয়নি, সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করা হবে। এছাড়া জেলা পর্যায়ের সড়কগুলোকেও ১৮ থেকে ২৪ ফুটে প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ট্রাফিক ভলিউম ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে সমীক্ষার ভিত্তিতে কোনো কোনো সড়ক ১০ দশমিক ৩ মিটার বা ৩৪ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হতে পারে।

সভায় নরসিংদীর সড়ক প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়েও আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে কোনো প্রকল্পে এমন সমস্যা দেখা দিলে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের অনুশাসন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে চালু লেনগুলো নিয়মিত সংস্কার ও মেরামতের মাধ্যমে সচল রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।