শিক্ষায় জাতীয় বাজেটের বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৩৯। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন যে সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং জাতীয় বাজেটে এ খাতের বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, দেশের মেধাবী জনশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রীদের পড়াশোনায় অনুপ্রাণিত করতে সাইকেল বিতরণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে চারটি বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই সেই সময় এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

শিক্ষক নিয়োগের জটিলতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিভিন্ন জটিলতায় আটকে আছে। এই সমস্যা দ্রুত নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বিভাগ খোলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট বা আর্কিটেকচারের সাথে আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগ চালুর আগে প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা জরুরি। লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো কারিগরি বিভাগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ল্যাব সুবিধা ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের যুগে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে ইভি-সংশ্লিষ্ট কোর্স চালু করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্সের মতো আধুনিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এআই কোর্স চালুর আবেদন ইউজিসিতে দুই বছর ধরে আটকে থাকায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের ব্যয় প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তাই অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি এই বিনিয়োগের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনে কোথায় অবস্থান করছেন, তার তথ্য সংরক্ষণের জন্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।