ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে কবিরাজের ফাঁদে, সর্বস্বান্ত দামুড়হুদার ইকতারুল

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে গোপন রোগ, দাম্পত্য সংকট, প্রেমে ব্যর্থতা বা বিয়ের সমস্যার সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র। এমন প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের পীরপুরকুল্লা গ্রামের খাদেম হোসেনের ছেলে ইকতারুল ইসলাম।

ইকতারুল ইসলাম জানান, তিনি ফেসবুকের ‘মইনুল ইসলাম’ নামের একটি আইডিতে বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেছিলেন। ভুয়া কবিরাজ মইনুল ইসলাম নিজেকে মাদ্রাসায় পড়ুয়া দাবি করে জ্বিনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। এই কাজের বিনিময়ে প্রতারক চক্রটি বিকাশের মাধ্যমে সাত দফায় ইকতারুলের কাছ থেকে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তবে টাকা পাওয়ার পর কাজের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে সব মাধ্যম থেকে ব্লক করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী ইকতারুল আরও জানান, পরবর্তীতে বিজ্ঞাপনে দেওয়া দুটি নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করলে প্রতারকরা তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তার নাম-ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার হুমকি দেয়। কথিত তান্ত্রিক মইনুল ইসলাম নিজেকে টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। ভুয়া কবিরাজ মইনুল ইসলাম বিভিন্ন জনের ছবি ও ঠিকানা ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া সাফল্য প্রচার করে এবং মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য ও ভিডিও তৈরি করিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে।

প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে এবং কোনো উপায় না দেখে ইকতারুল ইসলাম দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মইনুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।