জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কূটনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের যোগাযোগ ব্যাপক হারে বাড়াচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে দলটির নেতারা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং দলীয় কর্মসূচি ও রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো তুলে ধরছেন। এনসিপি’র আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ফ্রান্স ও জার্মানির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
কূটনীতিকরা এনসিপি’র অস্থায়ী কার্যালয়ে এসেও দলটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে চীন, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের কূটনীতিকদের সঙ্গেও দলটির নেতাদের বৈঠক হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও তাদের আলোচনা হয়েছে, যেখানে গণতান্ত্রিক শাসন, সংসদীয় সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।
গত ২০শে আগস্ট চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক করেন এনসিপি’র মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এর আগে ১২ই আগস্ট আইআরআই প্রতিনিধিদল এনসিপি’র কার্যালয়ে এসে তাদের সর্বশেষ জাতীয় জরিপের প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। গত ৬ই আগস্ট ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া ৭ই আগস্ট ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে তার সুস্থতা কামনা করেন এনসিপি নেতারা।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে গত ৭ই জুন নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছিল। এছাড়া ২২শে জুলাই মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এবং ২৭শে জুলাই ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে ও জার্মানির চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আনজা কের্স্টেন এনসিপি’র অস্থায়ী কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানান, দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিয়ে তারা কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরাই এসব বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

