দীর্ঘ ১৭ বছর পর পৈতৃক জমি ফিরে পেলেন প্রবাসী পরিবার

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দলীয় প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জবরদখল করে রাখা ৮ দশমিক ১৫ একর পৈতৃক সম্পত্তি অবশেষে ফেরত পেয়েছেন প্রবাসী শরিফুল ইসলাম ও তার শরিকরা। সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার বালিথা মৌজার ‘ধাপার ঘের’ এলাকায় অবস্থিত এই জমিটি উদ্ধারের পর ভুক্তভোগী পরিবারটি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আরা রুবি, তার ছেলে জায়েদ বিন কাদের এবং তাদের সহযোগীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখল করে মৎস্য চাষ শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার দাপট ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে ভুক্তভোগী পরিবারটি কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শরিফুল ইসলাম দেশে ফিরে আসেন। ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ৩ জুলাই তিনি স্বজনদের নিয়ে জমিতে গেলে রওশন আরা রুবি, জায়েদ বিন কাদের, মাহাফুজ সরদার, বনি আমিন ও আব্দুল আলিমসহ ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও অভিযুক্তরা পুলিশের ডাকা মীমাংসা বৈঠকে উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও সাতক্ষীরা আদালতের জিপির উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হলেও রওশন আরা রুবি সেখানে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারটির দাবি, জমি সংক্রান্ত মামলায় নিম্ন আদালত ও জজ কোর্টে হেরে যাওয়ার পর রওশন আরা রুবি হাইকোর্টে একটি রিট করেছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের কাছে উচ্চ আদালতের রায় পাওয়ার মিথ্যা দাবি করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিলেন। সব বাধা পেরিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় গত মঙ্গলবার প্রবাসী শরিফুল ইসলাম ও তার স্বজনরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তির দখল বুঝে পেয়েছেন।

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি নতুন করে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেত্রী রুবির ছেলে ছাত্রলীগ নেতা জায়েদ বিন কাদের এখন প্রবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়েরের পাঁয়তারা করছেন। এ ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা পেতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারটি সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।