সন্ত্রাসীদের ধরতে ব্যর্থ হলে বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, বিশেষ করে ডিএমপিসহ অন্যান্য মেট্রো এলাকায় যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত, তাদের দ্রুত হেফাজতে নিতে হবে। এই নির্দেশ পালনে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মন্ত্রী। শনিবার সন্ত্রাসী হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক কান গলা (ইএনটি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনার তদন্ত সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ ও ডিবি এ পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর থেকে একজন, ঢাকা থেকে দুজনকে এবং ঘটনাস্থল থেকেই একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মন্ত্রী বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ধনাঢ্য ব্যক্তি, পেশাজীবী, ডাক্তার ও প্রকৌশলীদের টার্গেট করে মেসেজ পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং চাঁদাবাজি করে। তিনি পুলিশের কাজের প্রশংসা করলেও আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজেরা রাতারাতি কোটিপতি হতে চায় এবং তারা বিভিন্ন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দাগি আসামি ও গডফাদারদের নাম ব্যবহার করে।

হামলার মূল হোতা সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে যে সে হুন্ডি ব্যবসা করত এবং ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সে সন্ত্রাসীদের একত্র করে চাঁদাবাজি শুরু করে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। কোনো চিকিৎসক যদি নিজস্ব চেম্বার বা ক্লিনিকে বিশেষ নিরাপত্তাঝুঁকি অনুভব করেন, তবে তিনি যেন তাৎক্ষণিক পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

এ সময় সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম এবং ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হককে দেখতে যান। উল্লেখ্য, গত ১৭ই আগস্ট রাতে শান্তিনগরে চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর অধ্যাপক আসাদুর রহমান হামলার শিকার হন। এর আগে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নামে তার কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।