বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কূটনৈতিক মহলে যে জল্পনা চলছিল, তা শুক্রবার দুপুরে এক নতুন মোড় নেয়। শুক্রবার বেলা দুইটা নাগাদ ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে একটি আকস্মিক ঘোষণা আসে, যা পরে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেও নিশ্চিত করা হয়। রাষ্ট্রপতির ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি নাভিকা গুপ্ত বেলা ২টা ১৩ মিনিটে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানান, শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠানটি হবে না। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানানোর জন্য ওই সময় পূর্ণ রিহার্সাল হবে।
এই ঘোষণার পরপরই শুরু হয় তুমুল জল্পনা। গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে, তবে কি তারেক রহমানের সফর চূড়ান্ত? বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একের পর এক প্রশ্ন আসতে থাকে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণাটি সঠিক নয় বলে জানায় এবং পিআইবি ওয়েবসাইট থেকে বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে নেওয়া হয়। বেলা ৩টা ৩২ মিনিটে নাভিকা গুপ্ত জানান, আগের ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এই বিভ্রান্তি কার এবং কেন এমন ভুল হলো, তা রহস্যের আড়ালেই থেকে গেছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তারেক রহমানের ভারত সফর আগেই চূড়ান্ত ধরে নেওয়া হয়েছিল এবং সে অনুযায়ী ২২ আগস্ট শনিবারের অনুষ্ঠান বাতিলের প্রস্তুতি ছিল। ২৪ আগস্ট হায়দরাবাদ হাউসে নৈশভোজের কথাও শোনা যাচ্ছিল, যদিও সরকারিভাবে এর কোনো সমর্থন মেলেনি। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দিকনির্দেশনা নেই এবং প্রস্তুতির সুযোগও নেই। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ঢাকা মূলত শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। দুই দেশের ওয়াকিবহাল মহল বলছে, সরকারি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও আপাতত এই সফর ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

