মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সোমবার সন্ধ্যায় খুলনার হোটেল সিটি ইনে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আয়োজিত অংশীজন সম্মেলন-২০২৬-এ এ কথা জানান। মন্ত্রী জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে বন্দরের নাব্যতা নিশ্চিত করা, ড্রেজিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা, জেটি ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিল্প ও সেবা খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মোংলায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।
সম্মেলনে খুলনা-২ আসনের এমপি জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পি, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্রে রূপান্তর করতে খুলনা-মোংলা যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে। প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, তবে বিনিয়োগের বিশাল অঙ্কের কথা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। এফএসআরইউ স্থাপনের বিষয়ে তিনি জানান, চট্টগ্রামের ওপর এলএনজি নির্ভরতা কমাতে মোংলার আকরাম পয়েন্টে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সম্ভাবনা দেখা গেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সেখানে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই ও হাইড্রোমরফোলজি সমীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।
বন্দরের নাব্যতা প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, বড় জাহাজ চলাচলের জন্য ১০ মিটার ড্রাফট নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না। ড্রেজিংয়ের অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত গভীরতা না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনিয়ম বন্ধ করে কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে হবে। এছাড়া নৌপথে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত জাহাজ বা রেক অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্ত্রী জানান, একটি প্রতিষ্ঠান আগামী ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম ধাপের কাজ শুরু করতে আগ্রহী, যা প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করবে। তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপ শেষ হলে আরও ৬০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। মোংলাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই পরিকল্পনা জাতীয় উন্নয়নের অংশ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলকে আর পিছিয়ে থাকতে দেওয়া হবে না। বন্দরের অবকাঠামো, জেটি ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এটিকে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।
একই সঙ্গে মোংলায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।’ সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় খুলনার হোটেল সিটি ইনে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আয়োজিত অংশীজন সম্মেলন-২০২৬-এ এসব কথা বলেন তিনি।
মোংলা বন্দরের নাব্যতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নদীর বিভিন্ন অংশে সাত মিটার, সাড়ে ছয় মিটার এবং কোথাও ২২, ২৫ এমনকি ৩০ মিটার পর্যন্ত গভীরতা পাওয়া গেছে।

