দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় সোমবার সকালে আঘাত হেনেছে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়ার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক মানুষ বিধ্বস্ত ভবনের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ও কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার পৌরসভার কাছে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল। এটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে। রাজধানী বোগোটা পর্যন্ত এর তীব্রতা অনুভূত হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে।
কলম্বিয়ার নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বোগোটায় জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার কমান্ড পোস্ট থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত এসপ্রিয়েলার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ভূমিকম্পের ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পর্যটন অঞ্চল এহে কাফেতেরোর পেরেইরা ও মানিসালেস শহরে বেশ কিছু ভবন ধসে পড়েছে। মেদেয়িন শহরে জরুরি সাইরেন বেজে উঠলে বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। শহরটিতে মেট্রো চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বোগোটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কালি শহরে অন্তত ২৫টি ভবন ধসে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, রিসারালদা প্রদেশে ৪২ জন, ভায়েই দেল কাওকা প্রদেশে ২৭ জন, চোকো প্রদেশে ৪ জন, মানিসালেস শহরে ৩ জন এবং অ্যানতিওকিয়া প্রদেশে ১ জন নিহত হয়েছেন।
কলম্বিয়ার এই ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলাতেও অনুভূত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার তাচিরা রাজ্য ও বারকিসিমেতো শহরের বাসিন্দারাও কম্পন টের পেয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এর আগে গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

