ভুয়া ড্রাইভিং পারমিট দিয়ে কোটিপতি সাবেক কর্মকর্তা বাবুল

অটোমোবাইল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এএবি)-এর সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী ফুয়াদ পাশা বাবুলের বিরুদ্ধে ভুয়া আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট সরবরাহের মাধ্যমে প্রতারণার বিশাল সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় এই আন্তর্জাতিক পারমিট ইস্যুর নামে তিনি হাজারো গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়ে প্রায় শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে জানা গেছে। নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে তাকে এসোসিয়েশন থেকে বাদ দেয়া হলেও তিনি এখনো নিজের বাসায় বসে পুরনো বই ও সিল ব্যবহার করে জাল স্বাক্ষর দিয়ে ভুয়া পারমিট প্রদান করছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাবুল মিরপুর-১২ এর পল্লবী এলাকার রোড-৮, ব্লক-সি’র ৮/৩৯ নম্বর বহুতল ভবনে বসে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি প্রতিটি পারমিটের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি বিআরটিএ’র বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও তিনি জাল লাইসেন্স তৈরির প্রস্তাব দিয়ে থাকেন। দালাল চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত এই ব্যবসায় কোনো প্রকার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন পাসপোর্টের ফটোকপি বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি ছাড়াই তিনি পারমিট ইস্যু করছেন, যেখানে প্রায়শই ভুল নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাবুল ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর-১২ এর পল্লবী এলাকার রোড-৮, ব্লক-সি, ৮/৩৯ নম্বর বহুতল ভবনে তার ১১টি ফ্ল্যাট রয়েছে। শান্তিনগরে একটি পাঁচতলা বাড়ি, মিরপুর ডিওএইচএসে একটি ফ্ল্যাট, মিরপুরের মাটিকাটায় একটি প্লট এবং উত্তরা সেক্টর-১৩ এর নলগোলা এলাকায় কয়েক দাগ জমির মালিকানাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারে একটি বিলাসবহুল সম্পদ ছাড়াও সাভার, গাজীপুর, ত্রিশাল ও ময়মনসিংহে তার পরিবারের সদস্যদের নামে জমি রয়েছে। এমনকি ভারতের কলকাতার মহেশতলায় তার ছেলে রাশেদুল হাসানের নামে তিনটি বাড়ি থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। এক সময় এসোসিয়েশনে একক আধিপত্য বিস্তারকারী বাবুল তার ছেলে ও জামাতাকে ব্যবহার করে এই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বাবুল বলেন, ২০২৪ সালে তিনি এসোসিয়েশন থেকে বেরিয়ে এসেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা। অন্যদিকে, অটোমোবাইল এসোসিয়েশনের বর্তমান ডিজিএম অপারেশন মনির হাসান জানান, দুর্নীতির কারণে বাবুলকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে এসোসিয়েশন কিউআর কোড ভিত্তিক ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালু করেছে। বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. ইব্রাহিম খলিল স্পষ্ট করেছেন যে, এএবি’র ইস্যুকৃত এসব পারমিটের কোনো আইনগত বৈধতা নেই। কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন এই ধরনের প্রতারণা রোধে কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবকে দায়ী করেছেন।