অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলে দেশ এখন তিন দশক আগের নিয়মে ফিরেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন নীতিমালা প্রণয়নের সময় আইন অনুযায়ী জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের বাধ্যতামূলক পরামর্শ নেওয়া হয়নি।
চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার ২৯৭টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করে নতুন তালিকা প্রকাশ করেছিল, যেখানে ১৯৯৪ সালের ১১৭টি ওষুধের তালিকায় ১৮০টি নতুন ওষুধ যুক্ত করা হয়। তবে শুরু থেকেই বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি এই নতুন তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। শিল্প মালিকদের দাবি ছিল, তাদের যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত ৩০ জুন সংগঠনটি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে নীতিমালা পর্যালোচনার জন্য জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিল।
বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, নতুন তালিকাটি অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছিল এবং নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ওষুধের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা রোগীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সরকারি নজরদারি দুর্বল হলে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ জানান, ১৯৯৪ সালের তালিকায় থাকা অনেক ওষুধ বর্তমানে বাজারে নেই, তাই হালনাগাদ করা প্রয়োজন। ডা. এম মুশতাক হোসেনের মতে, পুরো কাঠামো বাতিল না করে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করা যেত। স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, আগের ১১৭টি ওষুধের তালিকা বহাল থাকলেও তা নতুন করে হালনাগাদ করা হবে এবং দাম নির্ধারণের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হবে।
গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভা ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকার জানিয়েছে, নতুন নীতিমালা প্রণয়নের আগে জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ নেওয়া হয়নি। আইন অনুযায়ী, এ ধরনের তালিকা প্রণয়নের আগে ওই পরিষদের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের জাতীয় তালিকা রয়েছে। এসব তালিকা ওষুধ কেনা, সরকারি সরবরাহ, ব্যয় পরিশোধ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।

