স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনো সরকারের কাছ থেকে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি বলে জানিয়েছেন ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। সোমবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। তবে নির্দেশনা না পেলেও নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতিতে কোনো ধীরগতি নেই বলে দাবি করেন তিনি।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রসঙ্গে ইসি সচিব জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার হওয়ার সুযোগ ৩১ জুলাই পর্যন্ত রাখা হয়েছিল। তবে নির্বাচন নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় এই সময়সীমা পরিবর্তন হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের তারিখ পর্যন্ত ৪৫ দিনের ব্যবধান থাকে। এছাড়া ভোটার তালিকা চূড়ান্ত ও মুদ্রণের জন্য প্রায় দেড় মাসের প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে একটি নির্বাচনের জন্য প্রায় তিন মাসের প্রস্তুতির সময় দরকার। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর বা ডিসেম্বরের কথা শোনা গেলেও সুস্পষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
আইন সংশোধন ও প্রস্তুতি সম্পর্কে ইসি সচিব বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধনের জন্য কিছু প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞা স্পষ্ট করা, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত আছে। এসব সুপারিশ স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। তবে দুজন নির্বাচন কমিশনার দেশের বাইরে থাকায় তাদের ফেরার পরই এটি পাঠানো সম্ভব হবে।
প্রস্তুতির তিনটি প্রধান দিক—বিধিমালা ও আইন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ—নিয়ে কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইসি আচরণ বিধিমালা প্রস্তুত করেছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ভোটকেন্দ্র তাদের অধীনে রয়েছে। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য টিওটি মডেলে মাস্টার ট্রেইনার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বাড়তি কোনো সংলাপের আপাতত সিদ্ধান্ত নেই বলে তিনি জানান।
এদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার বিষয়ে ইসি সচিব জানান, ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ স্থগিত রয়েছে। বাকি ৫৮টি দলের মধ্যে ৩৮টি দল অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে এবং ৮টি দল কোনো সাড়া দেয়নি, যাদের আইন অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে তিনি জানান, সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা পাওয়ার পর তফসিল নিয়ে আলোচনা করা হবে।

