ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামে নিখোঁজের ৯ দিন পর কাস্টমস বিভাগের নিরাপত্তা শাখার সিপাহি রাকিব রায়হান তালুকদারের (৪০) ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে অভিযান চালিয়ে মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহত রাকিব ওই গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে এবং রাহেলা খাতুনের সন্তান। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাকিব বিবাহিত হলেও কয়েক বছর আগে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। তিনি প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে ফিরে যেতেন। গত ২৩ জুলাই তিনি বাড়িতে আসার পর রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর শেষবার কথা হয়। পরদিন ২৪ জুলাই বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ হন। রাকিব একই এলাকায় আলাদা একটি বাড়িতে থাকতেন, যা দেখাশোনার জন্য একজন কেয়ারটেকার নিয়োজিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভেবেছিলেন তিনি কর্মস্থলে ফিরে গেছেন, কিন্তু ২৬ জুলাই কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় এবং মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় তাঁরা নিশ্চিত হন যে তিনি নিখোঁজ। এরপর ২৭ জুলাই রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডি করার পরদিন, ২৮ জুলাই থেকে বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জাও নিখোঁজ হয়ে যান। রাজু একই গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ তাঁর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। রোববার সকাল থেকে এলাকায় বিভিন্ন বাগান ও সন্দেহজনক স্থানে তল্লাশি চালানোর সময় রাকিবের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে সন্দেহজনক কয়েকটি ব্যাগের সন্ধান পায় পুলিশ।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান জানান, পুকুর থেকে তিনটি ভ্রমণ ও স্কুলব্যাগ এবং একটি বিছানার চাদরে মোড়ানো অবস্থায় মোট ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাকিবকে হত্যার পর মরদেহ এভাবে খণ্ডিত করে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিল। জিডি হওয়ার পর থেকেই বাড়ির কেয়ারটেকার আত্মগোপনে থাকায় তাঁকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, এর সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

