জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার ওপর শক্তি প্রয়োগ, গুলির নির্দেশ দেওয়া এবং দমন প্রক্রিয়ায় নেতৃত্বদানকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত দুই বছরে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত অনেক কর্মকর্তা আত্মগোপনে চলে গেলেও, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালন করা ১১৬ জন মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ ও জেলা এসপিদের মধ্যে ৪১ জন এখনো বিভিন্ন দপ্তরে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করছেন। এই হার ৩৫ শতাংশের বেশি, যা আন্দোলন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, আইনের আওতার বাইরে থাকা এই কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীণ অনৈক্য সৃষ্টি করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় ৬৪ জেলায় দায়িত্বরত ৭৭ জন এসপির মধ্যে ৩৫ জন এখনো বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত আছেন, যা এসপিদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে ৪২ জন বা ৫৪ শতাংশ এসপির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় এখন পর্যন্ত ১৭ জন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ। এছাড়া ৫৭ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত রাখা হয়েছে, যাদের পর্যায়ক্রমে বরখাস্ত বা অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। দেশের বাইরে পলাতক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
গত দুই বছরে আটজন মেট্রোপলিটন কমিশনার এবং আটজন রেঞ্জ ডিআইজির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে আট কমিশনার ও ছয় ডিআইজিকে অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং তিনজন ডিআইজি ও একজন কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া রেঞ্জ পর্যায়ে দায়িত্বরত ২১ জন অতিরিক্ত ডিআইজির মধ্যে ছয়জন এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন এবং বাকিদের বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ১১ জন এসপির মধ্যে তিনজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা জেলার তৎকালীন এসপি মো. আসাদুজ্জামানসহ গোলাম মোস্তফা রাসেল, মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ, প্রলয় কুমার জোয়ারদার, আরিফুর রহমান মন্ডল, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও মো. শাহজাহান সাময়িক বরখাস্তের তালিকায় রয়েছেন। অন্যদিকে, কারাগারে থাকা এসপিদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (নোয়াখালী), আব্দুল মান্নান (কুমিল্লা) এবং আবুল হাসনাত খান (বাগেরহাট)।
অতিরিক্ত আইজিপি একেএম আওলাদ হোসেন জানিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারকে সহায়তায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলার সাবেক এসপিরা পিবিআই, সিআইডি, এপিবিএন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে, তৎকালীন বিভিন্ন রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিদের মধ্যে ছয়জন এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন, যাদের মধ্যে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ও পিটিসিগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তারা রয়েছেন।

