দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে এক নজিরবিহীন চুরির ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২২টি কম্পিউটার থেকে হার্ডডিস্ক, প্রসেসর, র্যাম ও প্রিন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ খোয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের চারজন যুগ্ম সচিব, তিনজন উপসচিব, দুইজন সিনিয়র সহকারী সচিব ছাড়াও একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, তিনজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং বিভাগের সভাকক্ষের কম্পিউটার থেকেও এসব যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। এই ঘটনায় সচিবালয়ের নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার পর থেকেই সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
গত ২৩শে জুলাই মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টার ও স্ক্যানারে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর নিরীক্ষা চালিয়ে দেখা যায় যে, কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় অনেক যন্ত্রাংশই নেই। যুগ্ম সচিব খোদেজা খাতুন, শারমিনা নাসরীন, মো. আক্তার জামীল, মোছা. রোখছানা বেগম, উপসচিব জান্নাতুল ফেরদৌস, মো. আ. কুদ্দুস, নুসরাত জাহান এবং সিনিয়র সহকারী সচিব ফারহান লাবীব জিসান ও মনজুরুল আলমের পিসি থেকে প্রসেসর ও র্যামসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা চায়না আক্তার, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুবায়েত হোসাইন, আলীমুন্নেছা রেশমা, মিঠুন তালুকদার এবং অফিস সহকারী আতিকুল ইসলামের পিসি ও সভাকক্ষের পিসি থেকেও একই ধরনের যন্ত্রাংশ খোয়া গেছে।
জিডিতে আরও বলা হয়েছে, অফিসের কক্ষ খোলা ও বন্ধ করার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে গণপূর্ত অধিদপ্তর। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইডেন বিল্ডিংয়ের অফিস সহায়ক মো. মাহবুব হোসেন অফিস শেষে সন্ধ্যা ৬টার পর বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করে ৫ থেকে ৮ মিনিট অবস্থান করছেন। ১৪ই জুন সভাকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাহবুব হোসেন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করে একটি কার্টন দিয়ে পিসি ঢেকে সভাকক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত খাবার পরিবেশন কক্ষে নিয়ে যান। ৬টা ২১ মিনিটে তিনি আবার সেই পিসিটি নির্ধারিত স্থানে রেখে আসেন, যার ভেতর থেকে প্রসেসর ও র্যাম পাওয়া যায়নি।
এই চুরির বিষয়টি ২৩শে জুলাই অফিসিয়াল পত্রের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গণপূর্ত অধিদপ্তরকে অবহিত করেছে। সেইসঙ্গে সিসিটিভিতে শনাক্ত হওয়া মো. মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। শাহবাগ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং তদন্ত চলছে।

