মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের কোতারায়া নামক প্রবাসী অধ্যুষিত বাণিজ্যিক এলাকায় বড় ধরনের এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে দেশটির যৌথ বাহিনী। গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগে ৪৭২ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিক, যার সংখ্যা ৩৬৪ জন।
কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল ১১টা থেকে এই বিশাল অভিযান শুরু হয়। অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র ও নথিপত্র পরীক্ষা-নীড়িক্ষা করা হয়। মূলত অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা, অনাকাঙ্ক্ষিত জনসমাগম সৃষ্টি এবং বৈধ কোনো নথিপত্র না থাকার মতো বিষয়গুলো চিহ্নিত করতেই এই সমন্বিত তল্লাশি চালানো হয়েছিল।
অভিযান শেষে কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশাহ ইনজাউ জানান, এই অভিযানে ৩ ৩৭ সদস্যের একটি যৌথ দল অংশ নেয়। এই দলে অভিবাসন বিভাগ ছাড়াও কুয়ালালামপুর সিটি করপোরেশন (ডিবিকেএল), ফায়ার সার্ভিস, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
আটককৃতদের বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক তথ্যে জানা গেছে, আটক ৪৭২ জনের বয়স ১৮ থেকে ৬২ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ৪৩৯ জন পুরুষ এবং ৩৩ জন নারী রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৬৪ জন বাংলাদেশি ছাড়াও মিয়ানমারের ৫৭ জন, ফিলিপাইনের ৯ জন, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের ৭ জন করে, ভারতের ৬ জন, চীনের ৩ জন এবং জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের ১ জন করে নাগরিক রয়েছেন।
তদন্তে দেখা গেছে, তল্লাশি করা অধিকাংশ প্রবাসীর বৈধ নথিপত্র থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু আইন ও শর্ত ভঙ্গ করার কারণে তাঁদের সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা বৈধ অনুমতি ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সিটি করপোরেশন (ডিবিকেএল) পৃথক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ করার পর আটককৃতদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা ও অধিকতর তদন্তের জন্য বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, অবৈধ প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে কুয়ালালামপুর অভিবাসন পরিচালক হামশাহ ইনজাউ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিক এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে সরকারি কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ প্রবাসীদের অবিলম্বে দেশটির 'মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম' (পিআরএম)-এর সুবিধা গ্রহণ করে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
অভিযান শেষে কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশাহ ইনজাউ জানান, অভিবাসন বিভাগ, সিটি করপোরেশন (ডিবিকেএল), ফায়ার সার্ভিস, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত ৩৩৭ সদস্যের একটি যৌথ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

